২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ প্রাইজমানি: কোন দল কত টাকা পাচ্ছে? দেখুন সম্পূর্ণ তালিকা
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে বেশি অর্থ পুরস্কারের টুর্নামেন্ট। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই বিশ্বকাপ, যার আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো।
বিশ্বকাপের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে পুরস্কারের পরিমাণও। এবার অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে মোট ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিতরণ করবে ফিফা, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
যোগ্যতা অর্জনকারী প্রতিটি দেশ টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই নিশ্চিত অর্থ পাবে। এরপর দল যত সামনে এগোবে, তাদের প্রাইজমানিও তত বাড়বে। আর চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ পুরস্কার।
নিচে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সম্পূর্ণ প্রাইজমানির বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মোট প্রাইজমানি কত?
ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য মোট ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে।
৪৮ দলের বিশ্বকাপ, বেশি ম্যাচ, সম্প্রচার স্বত্ব, স্পন্সরশিপ এবং বাণিজ্যিক আয়ের কারণে এবারের পুরস্কারের অর্থ আগের যেকোনো আসরের তুলনায় অনেক বেশি।
এই অর্থ মূলত দুইভাবে বিতরণ করা হবে—
পারফরম্যান্সভিত্তিক প্রাইজমানি (দল কতদূর পর্যন্ত যেতে পারে তার ওপর নির্ভর করে)
অংশগ্রহণ ও প্রস্তুতি তহবিল (যোগ্যতা অর্জনকারী সব দলের জন্য)
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে কোন দল কত টাকা পাবে?
| টুর্নামেন্টে অবস্থান | প্রাইজমানি |
|---|---|
| 🏆 চ্যাম্পিয়ন | ৫ কোটি (৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার |
| 🥈 রানার্স-আপ | ৩ কোটি ৩০ লাখ (৩৩ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার |
| 🥉 তৃতীয় স্থান | ২ কোটি ৯০ লাখ (২৯ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার |
| চতুর্থ স্থান | ২ কোটি ৭০ লাখ (২৭ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার |
| কোয়ার্টার ফাইনাল (৫ম–৮ম) | ১ কোটি ৯০ লাখ (১৯ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার |
| শেষ ষোলো (৯ম–১৬তম) | ১ কোটি ৫০ লাখ (১৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার |
| রাউন্ড অব ৩২ (১৭তম–৩২তম) | ১ কোটি ১০ লাখ (১১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার |
| গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় (৩৩তম–৪৮তম) | ৯০ লাখ (৯ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার |
বিশ্বকাপে খেললেই প্রতিটি দল কত টাকা পাবে?
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করলেই প্রতিটি দেশ ফিফার কাছ থেকে নির্দিষ্ট অর্থ পাবে।
যোগ্যতা অর্জনকারী প্রতিটি দল পাবে—
১ কোটি (১০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার – যোগ্যতা অর্জনের জন্য
২৫ লাখ (২.৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার – প্রস্তুতি বাবদ
অর্থাৎ, মাঠে একটি ম্যাচও না খেলেই প্রতিটি দল কমপক্ষে ১ কোটি ২৫ লাখ (১২.৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার নিশ্চিতভাবে পাবে।
এছাড়াও ভ্রমণ, আবাসন ও অন্যান্য টুর্নামেন্ট-সংক্রান্ত খরচের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তাও দেবে ফিফা।
বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দল মোট কত টাকা পাবে?
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দল পারফরম্যান্সের জন্য পাবে ৫ কোটি (৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার।
এর সঙ্গে যোগ হবে ১ কোটি ২৫ লাখ (১২.৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের অংশগ্রহণ ও প্রস্তুতি তহবিল।
সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়ন দলের মোট আয় হবে ৬ কোটি ২৫ লাখ (৬২.৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারেরও বেশি। অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা যোগ হলে এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
কেন বাড়ানো হয়েছে বিশ্বকাপের প্রাইজমানি?
২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে। ফলে ম্যাচের সংখ্যা, টিভি সম্প্রচার, দর্শকসংখ্যা এবং স্পন্সরশিপ—সবকিছুই আগের তুলনায় বেড়েছে।
এই অতিরিক্ত আয়ের একটি বড় অংশ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা।
ফিফার লক্ষ্য শুধু বড় পুরস্কার দেওয়া নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নে আরও বেশি অর্থ বিনিয়োগ করা।
এক নজরে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ প্রাইজমানি
| বিভাগ | অর্থ |
|---|---|
| মোট প্রাইজ পুল | ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার |
| চ্যাম্পিয়ন | ৫০ মিলিয়ন ডলার |
| রানার্স-আপ | ৩৩ মিলিয়ন ডলার |
| তৃতীয় স্থান | ২৯ মিলিয়ন ডলার |
| চতুর্থ স্থান | ২৭ মিলিয়ন ডলার |
| কোয়ার্টার ফাইনাল | ১৯ মিলিয়ন ডলার |
| শেষ ষোলো | ১৫ মিলিয়ন ডলার |
| রাউন্ড অব ৩২ | ১১ মিলিয়ন ডলার |
| গ্রুপ পর্ব | ৯ মিলিয়ন ডলার |
| যোগ্যতা অর্জনের অর্থ | ১০ মিলিয়ন ডলার |
| প্রস্তুতি তহবিল | ২.৫ মিলিয়ন ডলার |
| সর্বনিম্ন নিশ্চিত অর্থ | ১২.৫ মিলিয়ন ডলার |
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মোট প্রাইজমানি কত?
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মোট প্রাইজমানি ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন কত টাকা পাবে?
চ্যাম্পিয়ন দল পারফরম্যান্স বাবদ ৫০ মিলিয়ন ডলার পাবে। অংশগ্রহণ ও প্রস্তুতির অর্থসহ মোট আয় হবে ৬২.৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
বিশ্বকাপে অংশ নিলেই কি টাকা পাওয়া যাবে?
হ্যাঁ। যোগ্যতা অর্জনকারী প্রতিটি দেশ কমপক্ষে ১২.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নিশ্চিতভাবে পাবে।
যোগ্যতা অর্জনের জন্য কত টাকা দেওয়া হবে?
প্রতিটি দল পাবে—
১০ মিলিয়ন ডলার (যোগ্যতা অর্জনের জন্য)
২.৫ মিলিয়ন ডলার (প্রস্তুতি তহবিল)
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুধু অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যার দিক থেকেই নয়, আর্থিক দিক থেকেও নতুন ইতিহাস গড়েছে। ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেকর্ড প্রাইজ পুল বিশ্বকাপকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। যোগ্যতা অর্জনকারী প্রতিটি দল নিশ্চিতভাবে বড় অঙ্কের অর্থ পাচ্ছে, আর যারা নকআউট পর্বে এগিয়ে যাবে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে আরও বড় পুরস্কার। তাই মাঠের প্রতিটি ম্যাচের মতো আর্থিক লড়াইটাও এবার বিশ্বকাপে সমান গুরুত্বপূর্ণ।
LET'S FIND SOME INTERESTING

0 Comments